নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন ফেরদৌস

104

মিডিয়ামেইল : ভারতের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিতর্কের মধ্যদিয়ে গতকাল রাতে (১৬ এপ্রিল) ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন নায়ক ফেরদৌস। এ নিয়ে দুই দেশে শোরগোল পড়ে গেলেও একেবারে চুপ ছিলেন তিনি। মিডিয়ামেইলের পক্ষ থেকে বার বার তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আজ (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তিনি একটি লিখিত বক্তব্য দেন। যেখানে ফেরদৌস স্পষ্ট ভাষায় বললেন, ভারতের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়াটা তার ভুল ছিল। চেয়েছেন ক্ষমাও।


ফেরদৌসের পুরো বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

আমি চিত্রনায়ক ফেরদৌস। অভিনয় শিল্প আমার একমাত্র নেশা ও পেশা। অভিনয় শিল্পের মাধ্যমে বাংলা ভাষাভাষি সকলের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরিতে সর্বদা কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমার ভাবতে ভালো লাগে, আমি দুই বাংলায় সমানভাবে জনপ্রিয়। দুই বঙ্গের মানুষের সংস্কৃতি ও জীবনাচারে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। আবার ভারত বহু কৃষ্টি-কালচারের সমন্বয়ে সমৃদ্ধ একটি দেশ।
১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের অবদান আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। পাশাপাশি ভারতের জনগণের ত্যাগ-তিতিক্ষা আমাদের চিরঋণী করে রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বহুদিনের। এখানকার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেক শিল্পী, সাহিত্যিক আমার বন্ধু। যাদের সঙ্গে আমি সবসময় হৃদ্যতা অনুভব করি। এজন্য বিভিন্ন সময় কারণে-অকারণে আমি এখানে চলে আসি।
ভারতে জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের এই নির্বাচন পূর্বের মতো সারাবিশ্বে সাড়া ফেলেছে। এই সময়ে আমি ভারতে অবস্থান করছিলাম। সকলের মতো আমারও আগ্রহের জায়গায় ছিল এই নির্বাচন। ফলে ভাবাবেগে তাড়িত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের একটি নির্বাচনি প্রচারণায় আমি আমার সহকর্মীদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করি। এটা পূর্ব পরিকল্পনার কোনও অংশ ছিল না। শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে আমি অংশগ্রহণ করেছি। কারও প্রতি বিশেষ আনুগত্য প্রদর্শন বা কোনও বিশেষ দলের প্রচারণার লক্ষ্যে নয়, আবার কারও প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করাও আমার উদ্দেশ্য ছিলো না। ভারতের সকল রাজনৈতিক দল এবং নেতার প্রতি আমার সম্মান রয়েছে। আমি ভারতের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।